গ্রীষ্মে আরও ৭ বিদ্যুত কেন্দ্র উৎপাদনে আসছে

গ্রীষ্মে আরও সাত কেন্দ্রের ৮৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনে আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্থাপিত সাত বিদ্যুত কেন্দ্রের সবগুলোই তরল জ্বালানি নির্ভর। গত বছর গ্রীষ্মে বিদ্যুত সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রগুলো নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়। সবগুলো কেন্দ্রই চলবে তরল জ্বালানি ফার্নেস অয়েলে। এরমধ্যে দুটি বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করেছে সরকারী কোম্পানি আর পাঁচটি কেন্দ্রই নির্মাণ করছে বেসরকারী উদ্যোক্তারা। আগামী মে এবং জুনে সবগুলো কেন্দ্রর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফার্নেস অয়েল চালিত কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে এলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার লোভোল্টেজ সমস্যার সমাধান হবে। বিদ্যুত বিভাগ আশা করছে এবার গ্রীষ্মে কেন্দ্রগুলো সরবরাহ শুরু হলে লোডশেডিং কম হবে। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে আগামী মে মাসে উৎপাদনে আসবে সরকারী দুই কেন্দ্র এগুলো হচ্ছে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) এর ১০০ মেগাওয়াট একটি কেন্দ্র। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলা বাগেরহাটে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শেষের পথে বলে জানা গেছে। এছাড়া রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল) নির্মাণ করছে অন্য কেন্দ্রটি। গাজীপুরে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রটিও উৎপাদনে আসবে আগামী মে মাসে। উদ্যোক্তাদের নির্মাণ করা কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই নির্মাণ করা হচ্ছে চট্টগ্রাম এলাকায়। এরমধ্যে ইউনাইটেড পাওয়ার আনোয়ারাতে-৩০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র নির্মাণ করছে। এই কেন্দ্রটিও আগামী মে মাসে উৎপাদনে আসবে।

শিকলবাহাতে নির্মাণ করা হচ্ছে ১০৫ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র। বারাকা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে। পটিয়াতে জডিয়াক পাওয়ার কোম্পানি চিটাগং নির্মাণ করছে ৫৪ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র। উত্তরাঞ্চলের বগুড়া এবং রংপুরে কনফিডেন্স পাওয়ার নির্মাণ করবে দুটি কেন্দ্র। প্রতিটি কেন্দ্র ১১৩ মেগাওয়াট করে বিদ্যুত উৎপাদন করবে। এই চারটি কেন্দ্র উৎপাদনে আসবে আগামী জুনে। দেশের উত্তরাঞ্চলে রংপুর এবং রাজশাহীতে লোভোল্টেজের সমস্যা রয়েছে। কোন কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কেন্দ্র বন্ধ থাকলে ন্যাশনাল গ্রিড থেকে যতই বিদ্যুত সরবরাহ বৃদ্ধি করা হোক ওই এলাকার বিদ্যুত পরিস্থিতি উন্নত হয় না। এজন্য সরকার চেষ্টা করছে ওই এলাকার বিদ্যুত পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের জন্য সেখানে বিদ্যুত উৎপাদন বৃদ্ধি করতে। তবে বিদ্যুত উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানির সঙ্কটে গ্যাস বা কয়লা চালিত কেন্দ্র সেখানে নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন বড়পুকুরিয়া ছাড়া ওই এলাকায় কোন কয়লাখনি উৎপাদন শুরু করেনি। আর কয়লা আমদানি করে সঙ্কট মেটানোর মতো অবকাঠামোও নেই। আর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি যে পরিমাণ কয়লা উৎপাদন করে তা দিয়ে পিডিবির কেন্দ্রের চাহিদাই পূরণ হয় না।

এছাড়া ওই এলাকাতে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহও নেই। ফলে ওই এলাকার সমস্যা সামাধানে তেল চালিত বিদ্যুত কেন্দ্রই নির্মাণে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) উত্তরের জেলা সৈয়দপুরে আরও একটি ১০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র নির্মাণ করছে।

সূত্রগুলো বলছে, বড়পুকুরিয়া কোলমাইন কোম্পানি দীঘিপাড়া কয়লা খনি উন্নয়নের কাজ করছে। এখন সম্ভাব্যতা জরিপ চলছে। এই সম্ভাব্যতা জরিপ শেষে উন্নয়ন কাজ শুরু হতেও কম করে আরও ৫ বছর সময় প্রয়োজন হবে। ওই খনিতে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে সেখানে কয়লা চালিত কেন্দ্র নির্মাণ করা যেতে পারে। তবে সেখানে কয়লা না পাওয়া গেলে বিকল্প চিন্তা করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে শুধুমাত্র তরল জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুত কেন্দ্র চালানো কঠিন হবে। সেক্ষেত্র প্রতিবেশী দেশের কোন এলএনজি টার্মিনাল থেকে এলএনজি আমদানি করে কেন্দ্র নির্মাণের চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়া ভারত থেকে উত্তরবঙ্গ হয়ে বিদ্যুত আমদানি করা গেলে এই সঙ্কটের সমাধান সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।