ধামইরহাটে স্কুলছাত্রীসহ মা-বাবাকে মারপিটের অভিযোগ : নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারটি!

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাটে জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একটি অসহায় পরিবারের তিন সদস্যকে শারিরীক ভাবে নির্যাতন করে আহত ও নগদ অর্থ এবং গলার স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ভাবে মিমাংসা না হওয়ায় অবশেষে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তা অভাবে ভূগছেন। এমনকি, বিবাদীগণের হুমকিতে বাড়ি হতে স্কুলে যেতে পারছেন না ১০ শ্রেণির অধ্যয়নরত স্কুলছাত্রী।
শনিবার (২৭ এপ্রিল) জেলার ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের দেউলবাড়ি গ্রামের ছালিমা খাতুন (৪৫) থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বলে নিশ্চিত করেন ওসি জাকিরুল ইসলাম।
থানার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদীর স্বামী হাবিবুর রহমান অসুস্থ ব্যক্তি ও একমাত্র কন্যা সন্তান মোসা: হাদিকাতুজ জান্নাত ভেড়ম উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। আমার স্বামী সুস্থ থাকা অবস্থায় আমার নামে কিছু জমি রেজিস্ট্রি দলিল করে দেয়। অসুস্থ স¦ামীর রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করাইতেছি। জমি রেজিস্ট্রি দেওয়ার কারণে বিবাদী মৃত- কমির উদ্দিন ম-ল পুত্র আমিনুর রহমান (৩৫), নবিবর রহমান (৫৫), মিজানুর রহমান (৫২) ও মৃত নবিবর পুত্র রেজাউল করিম এবং মিজানুর পুত্র মোস্তাকিম (২৮) এবং তাছির উদ্দিনের পুত্র আবু সাইদ (৩৫) সর্ব সাং দেউলবাড়ি, থানা ধামইরহাট। গত ২৫ এপ্রিল আনুমানিক রাত্রি সাড়ে ১০টার দিকে বাড়িতে এসে প্রধান দরজা খুলে দিতে বলেন, মিজানুর রহমান। এরপর আমার স্বামী বিবাদী কথা শুনে দরজা খুলে দিলে বাড়িতে প্রবেশের পর আমিনুর, নবিবর ও মিজানুর আমার স্বামীকে আতর্কিত মারপিট করতে থাকলে অসুস্থ স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে আমাকে ও আমার কন্যাকেও এলাপাতাড়ি ভাবে মারপিট করে। এমনকি পড়নের জামা-কাপড় টান-হেঁচড়া পূর্বক বিবস্ত্র ঘটায়। বিবাদীদের শারীরিক নির্যাতনে অসচেতন হয়ে পড়লে আমরা আহত অবস্থায় স্বামীর মাথায় পানি ঢালতে থাকি। এসময় আমার শয়ন ঘর হইতে গরু ও ধান বিক্রয়ের রক্ষিত নগদ ৭০ হাজার টাকা এবং আমার কন্যার তিন আনা পরিমাণের স্বর্ণের চেইন (যার বাজার দাম প্রায় ৮হাজার টাকা) গলা হতে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় মেয়ের বড় ধরণের ক্ষতি করার হুমকি প্রদান করেন। এমতাবস্থায়, গত ২৬ এপ্রিল অসুস্থ স্বামীর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে ধামইরহাট বাজারে শ্যামলী গাড়ির কাউন্টারে টিকিট ক্রয় করিলে বিবাদীগণ বাঁধা দেয় ও প্রকাশ্যে হুমকি দেয় যে, আমার স্বামীর বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটিলে তাহার দায়ভার আমার উপরে বর্তাইবে এবং আমার উপরে তাহারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে। এমতাবস্থায়, বিবাদীগণের হুমকিতে আমার কন্যা স্কুলে যেতে পারছেন না ও আমার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তার অভাবে ভুগতেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকিরুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত পূর্বক আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। ওসি আরো জানান, শরিকানা জমি সংক্রান্ত ব্যাপরে ঘটনাটি চাচা-ভাতিজা মধ্যে ঘটে। মিমাংসার জন্য বাদী ও বিবাদী গণকে থানায় ডাকা হয়েছে।