সর্ব খর্বতারে দহে

জাফর ওয়াজেদ
প্রতিটি সমাজব্যবস্থা কোন না কোন বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সেই সমাজের মানুষের সমঝোতা। কোন ব্যবস্থাতেই সকল মানুষ সুখী হয় না। কেউ কেউ সন্তুষ্ট হয়। সে জন্য সমঝোতা অযৌক্তিক হয়ে যায় না। বিশেষ সময়ে, বিশেষ সমস্যা সমাধানের জন্য ওই ব্যবস্থাই সুষ্ঠু। যদি তা না হতো তাহলে হয় সে সমাজ গড়ে উঠত না, না হয় তৎক্ষণাৎ ভেঙ্গে যেত। যা কিছু আছে তাই সত্য এবং সুন্দর-এ কথা বলা সম্ভবপর হয় না। শুধু বলা যায়, প্রত্যেক সমাজব্যবস্থার যুক্তি আছে। বাস্তব অবস্থার মোকাবেলা করতেই বিভিন্ন সমাজের সৃষ্টি। বাস্তব অবস্থা পাল্টালে সমাজ পাল্টায়। পরিবর্তনশীল সমাজের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে মানিয়ে নেয়াটুকুই যুক্তিবাদ। তাই যুক্তিবাদ বিশেষ কোন সমাজের সম্পত্তি হয় না। দেখা যায়, বাস্তব অবস্থা মানে সমাজের উৎপাদন ব্যবস্থা। এই উৎপাদন ব্যবস্থা মাঝে মাঝে বদলায়। কেন বদলায়? হয়ত অনেকে জানেন। হয়ত জানেন না। এই না-জানাটুকুকেই বলা হয়ে আসছে ‘ডায়ালেকটিকস’ বা বস্তুবাদ। উৎপাদন এবং ডায়ালেকটিকস প্রগতির স্রষ্টা এবং তারই দুর্জ্ঞেয় লীলা। মানুষের নিজেকে উপলব্ধি করার জন্য বাস্তবকে বোঝা অবশ্যই সঙ্গত। প্রাকৃতিক পরিবেশ, সমাজের জীবনব্যবস্থা এবং সমাজের মানসিকতার বিষয়ে বাস্তব উপলব্ধি অগ্রগতির পথকে মসৃণ করতে পারে। দৃশ্যমান যে, জড় প্রকৃতি এবং জৈব প্রকৃতি মানুষকে দু’ভাবে আবদ্ধ করে। একদিকে মানুষের বাসস্থান প্রকৃতির সৃষ্টি; তা পাহাড়, বন, সাগর সৈকত ইত্যাদি অনেক কিছুই হতে পারে। কিন্তু যা-ই হোক, সে বাসভূমি মানুষের চিরস্থায়ী বাস্তব। জীবনধারার ওপর এই পরিবেশের প্রভাব স্বীকার্য। প্রাকৃতিক পরিবেশ কোন না কোনভাবে মানুষের জীবন নির্ধারণ করে। অপরদিকে মনুষ্যজাতি শরীর গঠনে ভিন্ন। মঙ্গল, ককেশীয়, নিগ্রো মানুষ কিছুটা পরিমাণে পৃথক। এই পার্থক্যও বাস্তব। এই পার্থক্যও স্মরণীয়। বাস্তব অবস্থার মধ্যে মানুষের তৈরি যন্ত্রপাতি এবং মানুষের কর্মপ্রণালীও পড়ে। সমাজ মাত্রেই প্রয়োজনে কিছু না কিছু যন্ত্রপাতি কোন না কোনভাবে ব্যবহার করে। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনধারণ পদ্ধতি, বসবাস, উপকরণাদি ব্যবহার অনুসন্ধানে সমাজের বাস্তব চেহারা স্পষ্ট হয়। প্রকৃতির মোকাবেলা করার জন্য সাধ্যমতো ব্যাপক আয়োজন করে। শতাব্দী ধরে এই আয়োজন সম্পূর্ণ হয়। যে যে সমাজের মানুষ, সেই সমাজের আয়োজনটুকু তার কাছে বাস্তব পাহাড়-জঙ্গলের মতনই। উৎপাদন ব্যবস্থা এই ব্যাপক আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অবশ্য এটা ঠিক, সমাজের মানসিকতা বিষয়টি জটিল। এর মধ্যে সমাজের যাবতীয় জীবনপ্রথা পড়বেই। তা উৎপাদন সম্পর্কই হোক আর পরিবার প্রথাই হোক। এরই মধ্যে পড়বে স্বীকৃত বিশ্বব্যাখ্যা। এরই মধ্যে আসবে সমাজের গৃহীত অতীত। তর্কাতীত জ্ঞানসমাজের গৃহীত অতীত। সমাজ মনের জরুরী অংশ। এরই সঙ্গে জড়িত থাকে কিছু উপলব্ধ সত্য। বাস্তব অবস্থা বিশাল। অবশ্য তাও পাল্টায়। কিন্তু কোন একটা কারণে পাল্টায় না এবং এই পরিবর্তনের কোন অমোঘ আইনও নেই। একথা বলার অর্থ এমন নয় যে- সবকিছুই দুর্বোধ্য, মানুষ অসহায়। অতএব, তাবিজ বা মাদুলি পরিধান করে বিচরণ করতে হবে। একথা বলার উদ্দেশ্য এই যে- জটিল সত্যকে সরল মিথ্যায় পরিণত করা চলে। কিন্তু কাজটি বিজ্ঞানসম্মত, এই দাবি অগ্রাহ্য। বাস্তবকে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা করেও জড়বাদী এক বিশ্বাসকে অশ্রদ্ধা করা চলে। বরঞ্চ বহুরূপী বাস্তবকে যত শ্রদ্ধা করা হয়, সমস্ত একবাদী মেজাজ ততই অপাঙক্তেয় মনে হওয়া স্বাভাবিক। অপরদিকে ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ সম্পূর্ণ বজায় রেখেও ইতিহাসের নিয়তিকে অস্বীকার করা চলে। বরঞ্চ বাস্তববাদী বিশ্লেষণী বুদ্ধিই নিয়তিকে হাস্যকর করে তোলে। বাস্তব অবস্থার বহুবাদী ব্যাখ্যা থাকে। এভাবে চিন্তা করলে বাস্তব অবস্থা ও সমাজ ব্যবস্থা পৃথক থাকে না। বিশ্লেষণ করতে বসলে পৃথক করতে হয়, প্রকৃত প্রস্তাবে সমাজ ও বাস্তব অভেদ্য। অবশ্য মানুষের বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি ও কর্মক্ষমতা এগুলো এই বাস্তব ও সমাজ থেকে পৃথক। অবস্থা যখন বদলায় মানুষ বুদ্ধি দিয়ে সেই পরিবর্তন বোঝে, ইচ্ছা ও কর্মে সেই পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নতুন জীবন তৈরি করে। বিশেষ মানুষ বিশিষ্টভাবে কাজ করে। সেজন্য মোটামুটি একই অবস্থার মোকাবেলা করতেও পৃথক সমাজ তৈরি হতে পারে। বলা যায়- যেমন, একালের রাশিয়া আর পশ্চিমী গণতন্ত্রগুলোর বাস্তব কাঠামো একই রকম হয়ে এসেছে। কিন্তু সমাজ আলাদা। এর কারণ-এই সমাজগুলোর ইতিহাসে বুদ্ধি, ইচ্ছা ও কর্ম বিভিন্নভাবে কাজ করেছে। এজন্যই আবার বিভিন্ন যুগে বিশেষ বিশেষ সমাজ চমকপ্রদভাবে এগিয়ে যেতে পারে। নাবিক হেনরির পর্তুগাল, প্রথম এলিজাবেথের ইংল্যান্ড, রেমব্র্যান্ডের হল্যান্ড এর নিদর্শন। শুধু বাস্তব শক্তির বিশ্লেষণ করে এই ইতিহাসের অর্থ মেলে না। হয়ত চিরনতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দোহাই দিয়ে গোঁজামিল দেয়া যায়। নিপীড়িত জনগণকে স্মরণ করে অগ্রাহ্য করা যায়। কিন্তু ব্যাখ্যা করা যায় না। বাস্তব অবস্থা এবং কর্মক্ষমতা এই দুটোকে পৃথক করা গেলে যুক্তিভীত মানুষকে বোঝা যায়। বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে মানিয়ে নেয়াটুকুই সমাজের যুক্তি। সুপ্রতিষ্ঠিত সমাজে মানুষ সাধারণত যুক্তিবাদী। যে সৃজনীশক্তি সমাজকে তৈরি করেছে, সেই শক্তিই এক বিশ্ব ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে। সমাজে মানুষ অনেক দুঃখে, অল্প সুখে, কিন্তু মোটামুটি নিশ্চিন্তে বেঁচে আছে। বিশাল কোন ভাঙচুর নেই, দুর্বার কোন প্রশ্নও উঠছে না। মানুষ যুক্তিবাদী কথাটি শুনতে ভাল। বিশ্বাস করতে পারলে আত্মপ্রসাদ সম্ভব। কিন্তু অর্থ অস্পষ্ট সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত। যুক্তি কী বস্তু, সমাজ কখন যুক্তিবাদী হয় ইত্যাদি বিষয়ে মনস্থির করা গেলে, দেখা যাবে, মানুষ বিশেষ অর্থে, বিশিষ্ট সময়ে যুক্তিবাদী, অন্যথা নয়। জীবন জটিল। গরল সিদ্ধান্ত সচরাচর অকেজো। জীবজন্তুর তুলনায় মানুষ যুক্তিবাদী, এই সিদ্ধান্ত অনস্বীকার্য। মানুষ সঞ্চিত অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করে পরিবর্তনের মধ্যে বেঁচে থাকে। প্রতিকূল প্রকৃতি, অক্ষম শরীর এসব সত্ত্বেও মানুষ বুদ্ধিবলে প্রাধান্য পেয়েছে। এই সাদামাটা ইতিহাস জানা বলে মানুষকে যুক্তিবাদী বলা হয়। যুক্তিবাদ বস্তুটি জীবনযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত। প্রতিকূল পরিবেশ এবং পরিবর্তনের সমস্যা এই দুইয়ের মোকাবেলা করার জন্য মানুষ যেভাবে বুদ্ধির প্রয়োগ করেছে, তাতেই যুক্তিবাদ তৈরি হয়েছে। অবশ্য ঘটনা এখানেই শেষ নয়। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ মানুষের একমাত্র সমস্যা নয়। মানুষ একত্রে বাস করে, সেজন্য সমস্যা সৃষ্টি হয়। একাকী মানুষের রয়েছে সমস্যা। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই মানুষ ক্রমেই পেছনে ফেলছে। সমাজজীবনের সমস্যা, একদা মানুষের অন্তর সঙ্কট এগুলোই আধুনিককালে প্রকট হচ্ছে। বাস্তব অবস্থা যেসব সমস্যার সৃষ্টি করে সেগুলো বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে হয়। নতুবা যুগের সমস্যা নতুন করে সমাধান করতে হয়। বুদ্ধি আশ্রয়ী তথ্যনিষ্ঠ এই চেষ্টাটুকুই যুক্তিবাদ। সমাজে মানুষ যুক্তিবাদী এই অর্থে যে, সমাজের মননশক্তি যে বিশ্বব্যাখ্যা তৈরি করেছে। সমাজের সাধারণ স্বীকৃতি, যুক্তি-রীতি, পরিচিত তথ্য সবকিছুই তার মধ্যে আছে, তার সঙ্গে খাপ খায়। যুক্তিবাদ যেমন কোন বিশেষ সমাজের মৌরুসিপাট্টা নয়। যুক্তিও তেমনি অনড়, অচল জগন্নাথ নয়। অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মননের বিকাশে সমাজের যুক্তি নতুন রূপ নেয়। কিন্তু সমাজ যখন ভেঙ্গে পড়ে, নতুন সমাজ যখন তৈরি হয়, তখন ত্রিশঙ্কু মানুষ যুক্তিভীত হতে পারে। নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন মনন যখন অন্য এক সমাজ যুক্তি তৈরি করছে তখন যে মানুষ পুরনো ব্যবহারে নিরাপদ মনে করে আঁকড়ে থাকে বা নিজেকে প্রত্যক্ষ স্বার্থে নতুন সমাজ স্বার্থকে অস্বীকার করে, সেই মানুষ যুক্তিভীত। দেশের রাজনীতিক, সাংস্কৃতিকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট হবে, যুক্তিভীত মানুষের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। যুক্তিভীত মানুষ সবসময় নিজের মেজাজ সম্পর্কে সচেতন নয় এবং নিজের অবস্থার জন্য দায়ী এমনও নয়। পুঞ্জীভূত মানসিক আলস্য সব সময়ই দেখা যায়, জ্ঞানের প্রসার সব সময় সমান হয় না। মূল্যবোধও সহজে পাল্টায় না। প্রকৃতপক্ষে যুক্তিভীত মানুষ সাধারণ মানুষ, অধিকাংশ মানুষ। সুপ্রতিষ্ঠিত, আত্মবিশ্বাসী সমাজে যে মানুষগুলোকে যুক্তিবাদী বলি, সময়ের পাথর্ক্য,ে অবস্থার বৈগুণ্যে তারাই যুক্তিকে ভয় পেতে পারে। বাস্তব অবস্থা যখন বিশালভাবে পালটে যায় তখন বিরাট অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। মানুষের জ্ঞান পুরনো বিশ্বব্যাখ্যাকে অপ্রমাণ করে। সেই ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত জীবনযাত্রাকে অকেজো মনে হবেই। জীবনসংগ্রাম ক্রমশই কঠিন হয়। একদিকে গ্রাসাচ্ছাদনের কষ্ট বাড়ে, অপরদিকে মানুষের মনে অরাজকতা তৈরি হয়। এই ত্রিশঙ্কু সমাজে খুব স্বাভাবিকভাবে অধিকাংশ মানুষ উটপাখির মেজাজে পুরনো বিশ্বব্যাখ্যা, পরিচিত জীবনধারাকে আঁকড়ে থাকতে চায়। এই আঁকড়ে থাকার জন্যই আবার সমাজে নতুন যুক্তিপ্রতিষ্ঠা কঠিন হয়। এদেশেই দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ শতকের চিন্তাচেতনাকে আঁকড়ে থাকা পঁচাত্তর পরবর্তী আবির্ভূত দলগুলো ক্রমশ যুক্তিভীত হয়ে পড়েছে। পুরনো ধাঁচের রাজনীতিকে আঁকড়ে রেখেছে। সমাজে যে পরিবর্তন ঘটে গেছে, তার সঙ্গে সম্প্রীতি মেলাতে পারছে না বলেই অন্ধকারের ঘূর্ণাবর্তে হাতড়ে মরছে। সমাজে থাকা অসঙ্গতি তৈরি করছে। এদের রাজনীতিই যুক্তিবিরোধী। স্বাভাবিক ধারায় দল গঠন না হওয়ায় দল হিসেবে স্বাভাবিক বিকাশও ঘটেনি। তাই সমাজ জীবনে নানা অসঙ্গতি তৈরিতে সহায়ক হয়ে উঠছে। যুক্তিভীত এই দলগুলো পুরনো যুক্তিকেই আঁকড়ে ধরে আছে। নতুন-পুরনো কোন যুক্তিকেই তারা মানতে পারে না। এই মানুষগুলোকে পুরনো যুক্তির কবল থেকে উদ্ধার করে যুক্তিহীনতার ওপারে নতুন সমাজের দিকে নিয়ে যেতে পারেন সম্পূর্ণ চিন্তাশীল মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন সমাজের দিকে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তিগ্রাহ্য বিষয় দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও যুক্তিভীতদের হীনম্মন্যতা প্রকট এত যে, তারা তা ধারণ করতে আগ্রহী নয়। অথচ শেখ হাসিনা সব কিছুকে নিয়মের মধ্যে নিয়ে এসে উন্নয়নের যে ক্ষেত্র প্রশস্ত করেছেন, সেখানে সকল স্তরের মানুষের সম্মিলন ঘটা আবশ্যক। শেখ হাসিনা তো জানেন, নিয়মে থাকলে মানুষ স্থির থাকে। জ্ঞানে, গরিমায়, শিক্ষা-দীক্ষয় এগিয়ে যেতে পারে। যুক্তিভীতদের যুক্তিবাদী হয়ে ওঠার বিকাশ আর কিছু নেই। দেশ ও জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে যুক্তিহীনতা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে না। জাতি বাঙালীকে বিশ্বসভায় এগিয়ে যেতে হলে যুক্তিবাদকে অগ্রাহ্য করা চলে না। বাঙালীর স্বাধীনতা, তার সংগ্রামী জীবনধারায় জাতিকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে অযৌক্তিক কোন কিছুই আর প্রাধান্য দূরে থাক, সামান্যতমও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারণ, যুক্তিহীনতা মানুষকে পশ্চাৎপদতায় বেধে রাখে। সমাজজীবন আরও বেশি এগিয়ে যাবেই।