আমাদের মুক্তিসংগ্রাম ॥ নেতাজী সুভাষ বসু ও বঙ্গবন্ধু

প্রদীপ মালাকার
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের দ্বারা দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষকে ভাগ করে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এই বিভাজন এ অঞ্চলের পরবর্তী প্রজন্মকে অনেক ঐতিহাসিক সত্যকেই ভুলিয়ে দিয়েছে। জন্মলগ্ন থেকে উগ্র সাম্প্রদায়িক ও শোষণনীতির পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী ১৯৭১ সাল ২৫ মার্চে বাঙালী জাতির ওপর পৃথিবীর যে নজিরবিহীন নিষ্পেষণ ও গণহত্যা শুরু করেছিল, তা রুখে দিয়ে রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরে জন্মলাভ করে স্বাধীন বাংলাদেশ। একটি অঞ্চলের এই যে শাসনতান্ত্রিক ভাঙ্গাগড়ার খেলা, তাতে যেমন চাপা পড়ে আছে বাঙালী জাতির বহু আত্মত্যাগের ইতিহাস, তেমনি প্রজন্মের উত্তরাধিকারদের মাঝেও এ নিয়ে জন্মেনি তেমন কোন অনুরাগ।

ভারতীয় উপমহাদেশের দুই কলঙ্কজনক অধ্যায় ব্রিটিশ ও পাকিস্তানী শাসনামল। বাংলার দুই মহানায়ক নেতাজী সুভাষ বসু ও বালাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ব্রিটিশ ও পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে দেশমাতৃকাকে মুক্ত করতে দুটি মুক্তিসংগ্রাম পরিচালিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী পাকবাহিনীকে পরাভূত করে দেশ স্বাধীন করেন। অপরটি ১৯৪৩ সালে নেতাজীর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’এর অবিভক্ত ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের তাড়াতে না পারলেও ব্রিটিশ রাজশক্তিকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। যা এ অঞ্চলের রাজনীতিকে দীর্ঘ সময় প্রভাবিত করে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলকাতা সফরে গিয়ে নেতাজী ভবন পরিদর্শনকালে তিনি যথার্থই বলেছেন, অখণ্ড ভারতের নেতাজী নেতৃত্ব না দিলে ভারত-পাকিস্তান স্বাধীন হতো না। আর পাকিস্তান না হলে বাংলাদেশও হতো না। তিনি অকপটে এও বলেন, আমার বাবার অন্যতম নায়ক ও আদর্শ নেতাজী সুভাষ বসু।

প্রায় দু’শ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের শৃঙ্খল থেকে ভারতীয় উপমহাদেশকে মুক্ত করতে বহু বৈপ্লবিক সশস্ত্র প্রচেষ্টা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে হলেও একথা অনস্বীকার্য যে, ব্রিটিশদের ভিত প্রবলভাবে নাড়াতে সক্ষম হন নেতাজীই। যা দারুণভাবে প্রভাবিত করে তরুণ শেখ মুজিবকেও। সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্ম ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি উড়িষ্যার কটক শহরে হলেও তিনি বেড়ে উঠেন কলকাতা শহরে। যে শহরে লেখাপড়া করতে গিয়ে রাজনীতি ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও। প্রখর মেধাবী সুভাষ ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চতুর্থ হয়েও তাতে যোগ না দিয়ে পরাধীন দেশমাতাকে উদ্ধারের সংকল্প করেন। জাতীয়তাবাদী নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের হাত ধরে সেই সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে রাজনীতিতে এসে পূর্ণ স্বরাজের দাবি তুললেন। স্বাধীনতার প্রশ্নে কোটি কোটি ভারতবাসীর অন্তরের কথা যেন সুভাষের কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছিল। দেশবাসী জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি পদে তাকে সমর্থন দিয়ে জয়যুক্ত করলেন। তারপর থেকে ব্রিটিশদের কাছে ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে থাকলেন সুভাষ। আপোসকামী রাজনীতিবিদদের কূটচালে দ্বিতীয়বার কংগ্রেস সভাপতি পদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হলেও পদত্যাগ করতে হলো তাকে। একযোগে সুভাষ বসুকে লড়তে হয় ব্রিটিশ ও নিজ দেশের ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে সমানতালে।

স্বাধীন বাংলাদেশে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় বাংলাদেশের জাতির পিতাকে। কংগ্রেস সভাপতির পদ ত্যাগ করার পর ফের কারারুদ্ধ সুভাষ অনশন শুরু করলেন, অবস্থা বেগতিক দেখে কলকাতার নিজ বাড়িতে অন্তরীণ করা হলো তাকে। ব্রিটিশের পুলিশ-গোয়েন্দাদের হাজারো চোখে ধুলো দিয়ে সুভাষ বসু বেরিয়ে পড়লেন ঘর থেকে। এরপরের ঘটনায় তিনি কেবল ভারতবর্ষের নন, বিশ্বের এক কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামী মহান নেতায় পরিণত হলেন, হলেন সবার প্রিয় নেতাজী। তৎকালীন বিশ্বের মহাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর প্রধানরা নেতাজীর অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্বের কাছে ম্লান হয়ে যেতে থাকলেন। তাকে বরণ করে নিতে থাকেন শ্রদ্ধার আসনে। নেতাজী বিশ্বের ক্ষমতাধরদের কাছ থেকে ভারতমাতাকে উদ্ধারের সমর্থন– সহযোগিতা আদায় করতে বেশি সময় নেননি। শক্তিশালী ব্রিটিশ-মার্কিন যৌথশক্তির বিরুব্ধে নেতাজীর এই যুদ্ধে আরেক ক্ষমতাধর জাপানসহ বেশকিছু দেশ পাশে থাকলেও তার মূলশক্তি ছিল দেশপ্রেমের, সততার ও আদর্শের। অন্যদিকে সামরিকভাবে শক্তিশালী পাকিস্তানী জান্তাদের সঙ্গে নিরস্ত্র বাঙালীর সংগ্রামে শেখ মুজিবেরও অস্ত্র ছিল দেশপ্রেমের মন্ত্র। নেতাজী তার গঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতিটি সেনার অন্তরে সেই আদর্শের বীজ যথাযথভাবে রোপণ করতে পেরেছিলেন। সেই যুব্ধে আজাদ হিন্দ ফৌজের ৩৬ হাজারেরও অধিক সেনার শাহদাৎবরণসহ বহু বীরত্বগাথা ইতিহাসে ঠাঁই পায়নি।

জাপানের সহায়তায় নেতাজীর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজ ব্রিটিশের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধে অভূতপূর্ব সাফল্য পায়। রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধে ব্রিটিশদের পরাভূত করে মনিপুর, আন্দামান ও নিকোবরসহ বিস্তীর্ণ ভারতভূমি অধিকার করে আজাদ হিন্দ ফৌজ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সেই সময়ে আমেরিকা জাপানের হিরোশিমা ও নাগাশাকি শহর দুটিতে এটম বোমা নিক্ষেপের ফলে মিত্র বাহিনীর কাছে জাপানের আত্মসমর্পণ নেতাজীর লড়াইয়ে ছন্দপতন ঘটায়। কিন্তু দেশজুড়ে গণমানুষের মাঝে যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ তিনি ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন তা ব্রিটিশদের বিতাড়নের পথকে প্রশস্ত করে। ফলশ্রুতিতে দেশভাগের মতো সুদূরপ্রসারী সর্বনাশ করে ভারত ছেড়ে যায় ব্রিটিশরা। তবে রেখে যায় তাদের অনুগত দোসরদের, যারা নেতাজীকে মৃত প্রতিপন্ন করার চক্রান্তে মেতে উঠে। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রকাশ্যে শারীরিক অনুপস্থিতির (১৯৪৫-এর পর থেকে) সাত দশক পেরিয়ে বহু তথ্য বহু কল্পকাহিনী ডানা মেলেছে। তার বেঁচে থাকার বহু তথ্য প্রকাশ্যে এলেও নেতাজী মৃত এমন প্রমাণ আজও অনুপস্থিত। ব্রিটিশ-আমেরিকা ও এদেশীয় কংগ্রেসী দালালদের প্রচারণায় নেতাজী ১৯৪৫ সালের ১৮ অক্টোবর প্লেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তারাই আবার যুদ্ধাপরাধী দাবি করে বিচারের জন্য জাতিসংঘের বেঁধে দেয়া বিভিন্ন সময়সীমার মধ্যে নেতাজী ভারতে ফিরে আসলে যেন রাষ্ট্রসংঘের হাতে তুলে দেয়া হয়। অপরদিকে, স্বাধীন দেশে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় দেশী-বিদেশী চক্রান্তে ও কতিপয় উচ্চবিলাসী সেনা সদস্যদের হাতে সপরিবারে প্রাণ দিতে হয় বঙ্গবন্ধুকে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর গভীর আদর্শিক সম্পর্ক ইতিবৃত্ত স্থান পায়নি ইতিহাসের পাতায়। তবে ২০১২ সালে প্রকাশিত জেলখানায় বসে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী-তে সুভাষ-মুজিবের আদর্শিক সম্পর্কের অনেক চিত্র উঠে এসেছে। যেখানে মুজিব তার তরুণ বয়সে নেতাজীর দ্বারা উদ্বেলিত আলোড়িত হওয়ার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করেছেন। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লিখেছেন, তখন স্বদেশী আন্দোলনের যুগ। মাদারীপুরের পূর্ণ দাস তখন ইংরেজের আতঙ্ক। স্বদেশী আন্দোলন তখন মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জের ঘরে ঘরে। আমার মনে হতো, মাদারীপুরে সুভাষ বসুর দলই শক্তিশালী ছিল। পনের-ষোলো বছরের ছেলেদের স্বদেশীরা দলে ভেড়াত। আমাকে রোজ বসে থাকতে দেখে আমার ওপর কিছু যুবকের নজর পড়ল। ইংরেজদের বিরুদ্ধেও আমার মনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হলো। ইংরেজদের এদেশে থাকার অধিকার নেই। স্বাধীনতা আনতে হবে। আমিও সুভাষ বাবুর ভক্ত হতে শুরু করলাম। এই সভায় যোগদান করতে মাঝে মাঝে গোপালগঞ্জ-মাদারীপুর যাওয়া-আসা করতাম। আর স্বদেশী আন্দোলনের লোকদের সঙ্গেই মেলামেশা করতাম।

তরুণ মুজিবের চোখের বেরি বেরি রোগের জন্য কয়েক বছর তার লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটে। ১৯৪০ সালে কলকাতায় চিকিৎসাকালীন সময়ে শেখ মুজিব নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদান করেন এবং কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। কলকাতার পুরনো দুর্গ উইলিয়ামে, যেটি বর্তমানে বিনয়-বাদল-দিনেশবাগ বা বিবাদীবাগ নামে পরিচিত, একটি মিনার ছিল। যাকে বলা হতো ‘ব্ল্যাক হোল’। ব্রিটিশরা দাবি করত, সিরাজ-উদ-দৌলা এই মিনারের অপরিসর জায়গায় কয়েকজন ব্রিটিশ সেনাকে ঢুকিয়ে হত্যা করেছিলেন। আদতে বিষয়টি সত্য ছিল না। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু এই ব্ল্যাক হোল মিনারটিকে সরিয়ে ফেলার জন্য আন্দোলন শুরু করেন। শাসক ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয় এই মিনারটি সরিয়ে ফেলতে। সেই সময় নেতাজীর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তার ডাকে সাড়া দিয়ে বঙ্গবন্ধু এই ব্ল্যাক হোল আন্দোলনে শামিল হন। এখানেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নেতাজীর প্রথম সরাসরি পরিচয় হয়। এ কথা বঙ্গবন্ধু নিজে ১৯৭২ সালে নেতাজীর ভাইয়ের ছেলে ডাঃ শিশির কুমারকে বলেন কলকাতা থেকে দেখা করতে এলে।

১৯৪০ সালে নেতাজীকে কারামুক্ত করার জন্য যে হলওয়েল মুভমেন্ট হয়েছিল কলকাতায়, সেই মুভমেন্টের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে একটি পরিকল্পনা হয়েছিল, পরিকল্পনাটি ছিল বিধানসভা ঘেরাও করার। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার সেই বিশাল মিছিলের স্লোগান ছিল বিধানসভা ঘেরাও কর, সুভাষকে ছিনিয়ে আন, মুক্ত কর। তখন এই দিনের কর্মসূচী সফল হয়েছিল। ওখানে একটি ঘটনা আছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বিধানসভার নব্য বিধায়ক। তিনি মিছিল প্রতিরোধকারীদের একজন হিসেবে বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। বিধায়কদের সঙ্গেও ছাত্রদের ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ধাক্কায় জ্যোতি বসু পড়ে গিয়েছিলেন।

পরবর্তীকালে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু যখন কলকাতায় গেলেন, তখন জ্যোতি বসুর সঙ্গে দেখা করে বিনয়ের সঙ্গে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন। জ্যোতি বসু সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে জানিয়েছিলেন, সেই চল্লিশের দশকের ঘটনায় বাহাত্তরে এসে দুঃখপ্রকাশ করতে এসেছে শেখ মুজিব, তিনি একজন গ্রেট লিডার। তার মানে নেতাজীর সঙ্গে তার রাজনীতির যে আদর্শ ও অনুপ্রেরণাগত, চিন্তা-চেতনার মিল তার সবই ছিল। আজকে আমরা বাংলাদেশকে যে স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে পেয়েছি তার মূলে বঙ্গবন্ধু অনুপ্রাণিত হয়েছেন নেতাজীর চিন্তাধারা থেকে। নেতাজীর সংগ্রামী জীবনাদর্শ তরুণ শেখ মুজিবের মনে গভীর দাগ কাটে। বঙ্গবন্ধুর আপোসহীন যে জীবন তার ভিত্তি অনুসন্ধানে আমরা খুঁজে পাব নেতাজীকে। মুজিব শ্রদ্ধার সঙ্গে নেতাজীর ত্যাগের মহিমা বর্ণনা করেছেন তার জীবনালেখ্যে। তিনি লিখেছেন, আমাদেরও ইংরেজদের বিরুব্ধে একটা জাত ক্রোধ ছিল। আমরা হিটলারের ফ্যাসিস্ট নীতি সমর্থন করতাম না, তথাপি যেন কোথাও ইংরেজরা পরাজিত হলে আমরা আনন্দ হই। নেতাজী অখণ্ড ভারতবর্ষকে স্বাধীন করতে শত্রুর শত্রু অর্থাৎ ইংরেজের শত্রু অক্ষ শক্তি জার্মান, জাপানের সাহায্য নেন। তিনি সমগ্র ভারতবাসীকে অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করেন এবং দেশবাসীর উদ্দেশে তার বহুল প্রচারিত সেই বিখ্যাত উক্তি ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দিব’ আহ্বান জানাতেন। নেতাজী দেশের বাইরে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে ভারতর্ষের হিন্দু ও মুসলমান সেনাদের দলে নিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন।

এক সময়ে আন্দোলনের বাঁকে বাঁকে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্ম নেয়া গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার মধুমতী নদীর তীরে সেই অজপাড়া গাঁয়ের রাখাল বালক হয়ে গেলেন জনগণের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর শাসন, শোষণ, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপোসহীন। দীর্ঘ ২৩টি বছর পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে বন্দী রাখেন এবং প্রচণ্ড দেশপ্রেম ও জনগণের ভালবাসা বার বার তাকে কারাগার থেকে ফিরে আনে। বঙ্গবন্ধু অনুধাবন করেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করতে গেলে নেতাজীর দেখানো পথেই হাঁটতে হবে। সেই লক্ষ্যে কাজ করার জন্য ১৯৬১ সালে বঙ্গবন্ধু বিশিষ্ট ছাত্র নেতাদের নিয়ে ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে ভারতীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ৭ মার্চের লাখ লাখ মানুষের সেই বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলকাতা সফরে গিয়ে রেড রোডে নেতাজীর বাসভবনে গিয়ে নেতাজীর প্রতিকৃতিতে অবনত শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তার আদর্শ পুরুষের প্রতি। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের কোন সরকার প্রধান বা রাজনীতিবিদরা উপমহাদেশের মুক্তিসংগ্রামের মহানায়ক নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুকে স্মরণ