গ্রামীণ ফোন নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় আগৈলঝাড়ায় ৮ লক্ষাধিক গ্রাহক

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
ঘুর্নিঝড় “ফণী” মোকাবেলায় গ্রামীণ ফোনের নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা আর প্রতারনার শিকার হয়েছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসনসহ উপজেলার আট লক্ষাধিক গ্রাহক।
নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় পড়ে ঘুর্নিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় গঠিত উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রন কক্ষসহ সরকারী পদস্থ কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ পদে পদে কাষ্টমার কেয়ারের সেবা নিতেও চরম হয়রানীর শিকারের অভিযোগ করেছেন গ্রামীণ ফোনের গ্রহকেরা।
এই অপারেটরের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গ্রাহক প্রতারণা ও নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা দূর করে সেবার মান বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন উপজেলার আট লক্ষাধিক বিক্ষুব্ধ গ্রাহক।
বিক্ষুব্ধ গ্রাহক আগৈলঝাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত জানান, টু-জি থেকে থ্রি-জি নেটওয়ার্ক ঘোষণার পরেই আগৈলঝাড়ায় নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা শুরু হয়। জিপি কোম্পানী সরকারের কাছ থেকে থ্রি-জি তরঙ্গ কিনে উচ্চ মূল্যে গ্রাহকদের কাছে এমবি ও এয়ার টাইম বিক্রি করে আসলেও পূর্বের টু-জি নেটওয়ার্ক এর গতিও পাচ্ছেন না তিনিসহ এই উপজেলার গ্রামীণ ফোন গ্রাহকেরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস জানান, নেট ওয়ার্ক বিড়ম্বনার সাথে নতুন মাত্রায় গ্রামীণ ফোনে অপারেটরে যোগ হয়েছে ‘বিদ্যুৎ বন্ধের সাথে সাথে ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ’।
উপজেলা সদরে গ্রামীণ ফোনের স্থাপিত টাওয়ারে অটো জেনারেটর চালু না থাকায় বিদ্যুৎ বন্ধের সাথে সাথে পুরো সদর এলাকার নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে গ্রামীণ ফোন অপারেটর ব্যবহারকারী গ্রাহকদের সাথে ফোন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। নেটওয়ার্ক বন্ধ হবার কারণে সরকারী জরুরী সেবার আওতায় থাকা উপজেলা পরিষদ, থানা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্টানের তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার, সাধারণ জনগনের সেবা ও তথ্য আদান প্রদান স্থবির হয়ে পরে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ দাস আরও বলেন, ঘুর্নিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি গ্রহনের পরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে শুক্রবার ( ৩মে) মধ্য রাত থেকে শনিবার(৪মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সকল এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধের সাথে সাথে উপজেলার সরকারী দপ্তরসহ গ্রামীণ ফোন ব্যবহারকারী কয়েক লাখ গ্রাহক একে অপরের সাথে নেটওয়ার্ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ‘ফণী’ মোকাবেলায় সরকারের খোলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষর সাথে জেলা ও বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের যোগাযোগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একইভাবে জিপি নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারী গ্রাহকেরা একে অপরের সাথে ‘ফণী’র ছোবলের সর্বশেষ খবর আদান প্রদানের তথ্য সেবা থেকে ছিটকে পড়েছে। জেলায় খোলা ‘ফণী’র নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সময়মতো প্রেরণ করা যায়নি সরকারে চাহিত তথ্য সমূহ।
উপজেলার একাধিক মোবাইল অপারেটর ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই উপজেলায় জিপির রেজিষ্ট্রেশনকৃত গ্রাহক সংখ্যা আট লাখের উপরে। নতুন করে দেশে ফোর-জি নেটওয়ার্ক চালুর পর গ্রামীণ ফোন বরিশাল জেলা শহরে সম্প্রতি ফোর-জি-নেটওয়ার্ক চালু করলেও আগৈলঝাড়া উপজেলায় এখনও ফোর-জি নেটওয়ার্ক চালু করেনি। অথচ কোম্পানীটি প্রতারণা করে আগৈলঝাড়ায় তাদের গ্রাহকদের এসএমএস এর মাধ্যমে ফোর-জি নেটওয়ার্কের যাবার অনুরোধ জানিয়ে আসছে।
নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় পরে ইতোমধ্যেই যে সকল গ্রাহক ১শ টাকা দিয়ে থ্রি-জি’র সীম ফোর-জি’তে রিপ্লেসমেন্ট করেছেন তাদের ওই ১শ টাকা গচ্ছা গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা।
ফোর-জি নেটওয়ার্ক তো দূরের কথা, জিপি তার গ্রাহকদের কাছ থেকে থ্রি-জি নেটওয়ার্কের টাকা হাতিয়ে নিলেও এখন পর্যন্ত আগৈলঝাড়ায় পুরো থ্রি-জি নেটওয়ার্ক সেবা দিতে পারেনি গ্রাহকদের। গ্রাহকদের সয়ংক্রিয়ভাবেই থ্রি-জি থেকে ফোর-জি’র সেবা পাবার অধিকার থাকলেও সীম রিপ্লেসমেন্টের নামে গ্রামীণ ফোন কোম্পানী অতিরিক্ত ১শ টাকা করে অবৈধভাবে আদায় করে আসছে।
এদিকে গ্রাহক আকৃষ্ট করতে গ্রামীণ ফোন কোম্পানী সর্বপ্রথম উপজেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে তাদের টাওয়ার স্থাপন করলেও গ্রাম তো দুরের কথা উপজেলা শহরের গ্রাহকেরাই নেটওয়ার্ক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। উপজেলা সদরের ফুল্লশ্রী এলাকায় স্থাপন করা টাওয়ার এলাকার বাসিন্দা কেএম আজাদ রহমান জানান, তার বাসার পাশে টাওয়ার থাকলেও জিপি’র নেটওয়ার্ক না থাকায় কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না তিনি। একই কথা জানিয়েছেন এফএম নাজমুল রিপন, স্বúন দাস, পলাশ দত্তসহ গ্রামীণ নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারী গ্রাহকেরা। একই অবস্থা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থাপন করা টাওয়ারের নেটওয়ার্ক।
সূত্র মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হবার সাথে সাথে গ্রামীণ সীমে কোন নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা। ফলে সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের জিপি গ্রাহকেরা যথা সময়ে প্রয়োজনীয় কাজ করতে না পারায় তাদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে পিছিয়ে পরেছে আগৈলঝাড়া উপজেলার আট লক্ষাধিক গ্রাহকেরা। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ বা লোড শেডিং এর সময় আগে গ্রামীণ ফোন টাওয়ারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালু থাকত। দীর্ঘ দিন যাবত স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালুর ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ যাবার সাথে সাথে গ্রামীণ ফোনের নেটওয়ার্কে কোন কাজ করতে পারছে না গ্রাহকেরা।
প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রাণীর ব্যাপারে গ্রামীণ ফোনের খুলনা সার্কেলের বানিজ্যিক বিভাগের ট্যারিটোরি ম্যানেজার (বিক্রয় ও বিতরণ) মো. জাবিদ হোসেনের (০১৭১১-৫০৪২৩৮ নম্বরে {চার বার}) ফোন বাজলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।