দারিদ্রতা দমাতে পারেনি ফারজানাকে শিক্ষক হবার স্বপ্ন ঢাকা পরছে অর্থের অবাবে

dav

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে টেমার মালেকা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. ছালাম মিয়া’র মেয়ে ফারজানা আক্তার। ফরজানা দুই ভাই বোনের মধ্যে বড়। তার পিতা ছালাম মিয়া আগৈলঝাড়া উপজেলার টেমার মালেকা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী।
ফারজানা বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেলেও ভালো আর্থিক সংকটের কারণে ভাল কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। টানাটানির সংসারে ফারজানা দৈনিক ৬ থেকে ৭ ঘন্টা পড়াশুনার পাশাপাশি অন্যদের প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ জুগিয়ে পরিবারকে সহযোগীতা করত।
ফারজানা জানায়, তার এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে বাবা-মা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগীতা ও অনুপ্রেরণা।
শিক্ষকদের সহযোগীতা ও অনুপ্রেরণায় অনুপ্রানিত হয়ে অতি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ফারজানা বহুকষ্টে এই কৃর্তিত্ব অর্জন করলেও ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে ছোট-ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে শিক্ষিত জাতি গঠন করার স্বপ্ন দেখছে।
ফারজানা’র বাবা মোঃ ছালাম মিয়া জানান, সামান্য বেতনে বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরীর চাকুরী করে দুই সন্তান, স্ত্রী ও নিজের গর্ভধারিনী মা’সহ পাঁচ জনের সংসার চালিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনার খরচ চালানো খুবই কষ্টকর। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি আরও বলেন, মেয়ের সাফল্যে খুশি হয়েও তার ভর্তি নিয়ে বর্তমানে চড়ম দুশ্চিন্তায় আছি। কিভাবে একটি ভালো কলেজে ভর্তি করে মেয়ের পড়াশুনার খরচ চালাবো। অর্থের অভাবে ফারজানার ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পরায় সমাজের বিত্তবানদের কাছে মেয়ের লেখা-পড়ার জন্য সাহায্যের আহব্বান জানিয়েছেন মেধাবী ছাত্রী ফারজানার বাবা- মা।