বগুড়ায় একদিনেই ২টি হত্যাকান্ড

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বগুড়ায় একদিনেই পৃথক ২টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বগুড়া শহরের চেলোপাড়া এলাকার নিজ বাসার শয়ন কক্ষে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হয়েছেন মারুফ হোসেন ওরফে পাভেল (৩৫) নামের এক যুবক। সে ওই এলাকার মৃত আলহাজ্ব মকবুল হোসেনের পুত্র। অপর ঘটনাটি বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলায় পরকীয়ার প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করায় ক্ষিপ্ত এক ভাগ্নে তার মামিকে কুপিয়ে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেছে।
শহরের চেলোপাড়ায় নিহত মারুফের বোন ফরিদা ইয়াসমিন জানান, মারুফ নেশাগ্রস্থ ছিল। তাদের বাবার তিন স্ত্রী। দুইজন মারা গেছেন। একজন বেঁচে আছে। তারা চারবোন ও তিনভাই ছিল। এক ভাইয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। অন্য একভাই গুম হয়েছে। দুই বোন এবং মারুফ ওই বাসায় থাকতো। মারুফ অন্য পক্ষের সন্তান। অন্য দুই বোন অন্য বাসায় থাকতো। বাকী কক্ষগুলো মেস হিসেবে ভাড়া দেয়া আছে। মারুফ সারাদিন বন্ধু, বান্ধব নিয়ে বাড়িতেই নেশা করতো। সারাদিন বাসা থেকে বের হতো না। এক মাস আগে মারুফ তার এক বন্ধুকে বাসায় ডেকে নিয়ে মারপিট করে টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হলেও মিটমাট হয়ে যায়। ওই ঘটনার জেরে হয়তো ঘটনা ঘটতে পারে।
বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক আসলাম আলী জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের বোন ফরিদা ইয়াসমিন কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মারুফ গুলিতেই নিহত হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন ।
মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সনাতন চন্দ্র জানিয়েছেন, তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন ভাটকোলা গ্রামের বসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি আপেল নামের এক উচ্ছৃংখল তরুণ পারিবারিক দ্বন্দের জের ধরে সকাল সাড়ে ৯টায় তার মামি (মামা সাইদুলের ২য় স্ত্রী ) আলেয়া বেগম ( ৩৫ ) কে ধারালো বাটাল দিয়ে ঘাড়ে , বুকে ও পেটে উপুর্যুপুরি আঘাতে মৃত্যু নিশ্চিত করে । মামি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লে ঘাতক ভাগ্নে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ।
পরে ওই গ্রামেরই একটি পরিত্যক্ত পাকা ঘরে ঢুঁকে আপেল নিজের পেটে বাটাল দিয়ে চিরে নাড়িভুঁড়ি বের দেয় । ফলে সেও মারা যায়। এলাকাবাসি জানিয়েছে উচ্ছৃংখল আপেল কিছুদিন আগে তার মামা সাইদুলের ২য় স্ত্রী আলেয়াকে পরকীয়ার প্রস্তাব দেয়। মামি আলেয়া ঘটনাটি বাড়ির লোকজনকে প্রকাশ করে দিলে সবাই মিলে আপেলকে শাসন করে। বিষয়টি নিয়ে আপেল মনে মনে ক্ষিপ্ত ছিল। ক্ষিপ্ততার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলেও জানিয়েছে এরাকাবসি। পুলিশ নিহত দু’জনের লাশ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরত হাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে ।