এনইসি বৈঠকে আগামী অর্থ বছরের এডিপি অনুমোদন হবে আজ

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) পরিবহন সেক্টরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য ২,০২,৭২১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) অনুমোদন দিবে আজ। রাজধানীর শেরে বাংলানগরে এনইসি ভবন মিলনায়তনে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় এনইসি’র এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। এর আগে গত ৮ মে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় খসড়া এডিপির আকার চূড়ান্ত করা হয়।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, এডিপির বরাদ্দকৃত মোট অর্থের মধ্যে ১,৩০,৯২১ কোটি টাকা পাওয়া যাবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। বাকি অর্থ পাওয়া যাবে প্রকল্প সহায়তা হিসাবে।
পরিকল্পনা কমিশনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বাসসকে জানান, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের বৈঠকে আগামী অর্থবছরের জন্য খসড়া এডিপি পেশ করা হবে। তিনি বলেন, সরকার এডিপির সবোর্চ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে অব্যাহত সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, নতুন খসড়া এডিপিতে মানব সম্পদ, উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, শিক্ষা,পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)তে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
আগামী অর্থ বছরের জন্য প্রস্তাবিত এডিপির আকার বর্তমান অর্থ বছরের এডিপির আকারের চেয়ে ১৭.১৮ শতাংশ বেশি ধরা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে এডিপি ছিল ১,৭৩,০০০ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত এডিপি দাঁড়িয়েছে ১,৬৭,০০০ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত এডিপিতে পরিবহন সেক্টরে সবোর্চ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পদ্মা সেতু এবং পদ্মা সেতু রেল লিংক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে। পাশাপাশি একক মন্ত্রনালয় হিসাবে স্থানীয় সরকার বিভাগে সবোর্চ্চ ২৯,৭৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
খাত ওয়ারি বরাদ্দের মধ্যে পরিবহন সেক্টর সবোর্চ্চ ৫২,৮০৫.৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে, যা এডিপি’র ২৬.৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ সেক্টর ২৬,০১৭.১৩ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১২.৮৩ শতাংশ।
পাশাপাশি শিক্ষা ও ধর্ম সেক্টর পেয়েছে ২১,৩৭৯.১২ কোটি টাকা, যা এডিপির মোট বরাদ্দের ১০.৫৫ শতাংশ। বিজ্ঞান ও আইসিটি সেক্টর পেয়েছে ১৭,৫৪১.২৬ কোটি টাকা, যা এডিবি’র ১২.৮৩ শতাংশ। পল্লী উন্নয়ন সেক্টর পেয়েছে ১৫,১৫৭.৪০ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৭.৪৮ শতাংশ। এ ছাড়া স্বাস্থ্য, পষ্টি, জনসংখ্যা, এবং পরিবার পরিকল্পনা সেক্টর পেয়েছে ১৩,০৫৫.৪৭ কোটি টাকা (৬.৪৪ শতাংশ), কৃষি সেক্টর ৭,৬১৫.৯৩ কোটি টাকা (৩.৭৬ শতাংশ), পানি সম্পদ ৫,৬৫২.৯০ কোটি টাকা (২.৭৯ শতাংশ), জনপ্রশাসন ৫,০২৩.৮৮ কোটি টাকা (২.৪৮ শতাংশ) বরাদ্দ পেয়েছে।